1000186283.jpg

জালালবাদ প্রতিদিন ডেস্ক : টানা ২১ মাস ধরে ইসরায়েলের অবরোধ ও হামলায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোরে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজা সিটির একটি বাড়িতে হামলায় মারা গেছেন ১২ জন, যার মধ্যে ৬ শিশু ও ২ নারী রয়েছেন। তল আল-হাওয়া এলাকায় আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৬ জন। এছাড়া তৃতীয় একটি হামলায় নিহত হয় তিন শিশু। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ইসরায়েলের অবরোধ এবং সহায়তা সরবরাহে বাধা দেওয়ার কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মে মাস থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা ঘটেছে মার্কিন সংস্থা দ্বারা তত্ত্বাবধান করা খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে। এক যৌথ বিবৃতিতে ১১৫টি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, তারা সহকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের "ধ্বংস হয়ে যেতে" দেখছে। সংস্থাগুলো ইসরায়েলের মানবিক সহায়তা প্রতিরোধ নীতিকে "নিষ্ঠুর" আখ্যা দিয়েছে। এদিকে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার রোমে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ইসরায়েলি উপদেষ্টা রন ডারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৯ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে হামলা চালায় বলেই বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সুড়ঙ্গপথ, বিস্ফোরক ও মিলিশিয়া ঘাঁটি রয়েছে। এদিকে, গাজায় চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সম্প্রতি দুটি বেসামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে—এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

1000185587.png

1000184457.jpg

1000182715.png

1000182650.jpg