প্রকাশিত :২৭ জুলাই ২০২৫ সময় : ৩:২৩ এম

1000186852.png

জালালবাদ প্রতিদিন: সিলেটবাসী চলতি মৌসুমে চরম বিদ্যুৎ সঙ্কটে ভুগছেন। টানা ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে কুমারগাঁও পাওয়ার স্টেশন। ফলে পুরো সিলেট অঞ্চলে সীমাহীন লোডশেডিং চলছে। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী ও গ্রামীণ জনগণ। অতিরিক্ত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। জানা যায়, কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি পাওয়ার স্টেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। যেহেতু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়, তাই কবে নাগাদ এটি মেরামত হয়ে পুনরায় চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে বর্তমানে সিলেটে শুধু জাতীয় গ্রিড থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সেই সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়। সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্য মতে, এখন আর সিলেটে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন নেই। উপরন্তু, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি)। পাওয়ার স্টেশন বন্ধের কারণ জানতে চাইলে বিউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, কুমারগাঁওয়ের ২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। বিউবো’র নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট, কিন্তু ছুটির দিন ছাড়া সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০০ মেগাওয়াট। সিলেট মহানগরীতে ৫টি ডিভিশনে ১৩টি সাবস্টেশন রয়েছে। তাপমাত্রা বেশি থাকায় ফিউজ ও তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। বিশেষ করে কুমারগাঁও স্টেশনের ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় গত ১০ দিন ধরে সিলেটে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে এবং ভোল্টেজও অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। সিলেট নগরীর ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, দিনে ৬–৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অফিস, স্কুল, হাসপাতাল—সবখানেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত হওয়ায় প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বিউবো সিলেট বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই আরেফিন বলেন,

"পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। উপরন্তু কুমারগাঁওয়ের পাওয়ার স্টেশন প্রায় ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ঢাকার ন্যাশনাল কন্ট্রোল থেকে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেজন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।"

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন,

"সিলেট বিভাগে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, তবে ছুটির দিন ছাড়া সরবরাহ হচ্ছে ৫০০ মেগাওয়াট। কুমারগাঁওয়ের ২৫ মেগাওয়াট স্টেশনের ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় এটি বন্ধ রয়েছে। আমরা এখন কেবল গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এটি চালু হলে লোডশেডিং কমবে এবং লো ভোল্টেজ সমস্যাও কিছুটা সমাধান হবে। তবে যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনতে হয় বলে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কতদিন লাগবে।"


প্রতিবেদক : মুমিন আহমদ মারুফ

জালালবাদ প্রতিদিন

1000185585.png

1000184457.jpg

1000184306.jpg

1000182715.png

1000182692.png

1000182650.jpg